কারেন্সি বিপর্যয়ের মুখে সারা বিশ্ব

USD

জাপানের টয়োটা কোম্পনি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে তাদের সকল ধরণের গাড়ি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। মুলত পাকিস্তানে রুপীর মূল্য অবিশ্বাস্যভাবে ডলারের বিপরীতে মান হারালে অস্থিতিশীল অর্থিক পরিস্থিতির কারণে টয়োটা এক রকম বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে তাদের ব্যবসা বন্ধ করেছে। চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে গতকাল ৭ই এপ্রিল এক ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের নিজস্ব মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমানে হ্রাস পেয়ে ১৮৯.৫ রুপী এবং ৬ই এপ্রিল ১৮৬.১৩ রুপীতে লেনদেন করা হয়। যেখানে প্রথম ১৯৪৭ সালে এক ডলারের বিপরীতে ৩.৩১ পাকিস্তানি রুপিতে লেনদেন করা হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কার মুদ্রা রুপীর নিজস্ব মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে ৩১৯.৯৯ রুপীতে লেনদেন করা হয়ে গতকাল।

গত ৫ই এপ্রিল ভারতের মুদ্রা রুপী এক ডলারের বিপরীতে ৭৫.৯৬ রুপীতে লেনদেন হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, গতকাল ৭ই এপ্রিল এক ডলারের বিপরীতে ৮৬.২২ টাকায় লেনদেন করা হয়েছে। এদিকে নেপালের মুদ্রা এক ডলারের বিপরীতে ১২১.৮৭ রুপী রেট নির্ধারণ করে দেয় দেশটির সরকার। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের মুদ্রার দর পতন হয়ে ৪২,৩০০ ইরানী রিয়াল সরকারিভাবে রেট নির্ধারণ করা হলেও খোলা বাজারে তীব্র ডলার সংকটের কারণে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যন্ত ইরানী রিয়ালে কেনাবেচা করা হচ্ছে। এদিকে তুরস্কের মুদ্রা লিরা প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৪.৭৪ লিরাতে লেনদেন করা হচ্ছে। যদিও ডলারের বিপরীতে সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল আরো শক্তিশালী হয়ে গতকাল ৩.৭৫ রিয়ালে উঠে এসেছে। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে ১ ডলারের বিপরীতে রাশিয়ার নিজস্ব কারেন্সী ৭২ থেকে ৭৫ রুবেলে লেনদেন করা হতো। যুদ্ধের শুরুতেই তা প্রথমে ৮৫ রুবেলে নেমে যায় এবং তা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার মুদ্রা রুবেলের মান ডলারের বিপরীতে ব্যাপক হ্রাস পেয়ে ১৫০ রুবলে নেমে আসে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে মার্চ মাস শেষে গতকাল ৩১শে মার্চ রাশিয়ার মুদ্রা আবারো শক্তিশালী হয়ে ১ ডলারের বিপরিতে ৮৩.৯৯ রুবেলে উঠে যায়।

উল্টো ইউরোপের দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানী তেল ও গ্যাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে এর মূল্য বাবদ রুবেলে দাম পরিশোধ করার শর্ত আরোপ করায় চরম বিপাকে পড়ে যায় দেশগুলো। আজ ৮ই এপ্রিল রাশিয়ার নিজস্ব কারেন্সি রুবল আবারো কিছুটা শক্তিশালী হয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৭৯.২৫ রুবলে লেনদেন করা হচ্ছে। বিশ্বের কিছু দেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে কিছুটা শক্তিশালী হলেও মোটের উপর সারা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের নিজস্ব কারেন্সি ধীরে ধীরে হলেও তার মান হারতে বসেছে। পাশাপাশি সারা বিশ্বে খাদ্য ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতির হার আকাঙ্ক্ষাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে চলমান করোনা মহামারী, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা এবং ইইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের উত্তাপে সারা বিশ্বে এক রকম চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।

লেখক: সিরাজুর রহমান (Sherazur Rahman)

সহকারী শিক্ষক ও লেখক,

গ্রামঃ ছোট চৌগ্রাম, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।