মুঘল সাম্রাজ্য পর্ব-১

মুঘল সাম্রাজ্য পর্ব-১

বাংলায় বিভিন্ন শাসকদের শাসনে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় মুঘল শাসন। স্থাপত্য শিল্পে কীর্তিময় অধ্যায়ের সূচনা করে মুঘলরা। ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে বাবর ভারত বর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক সম্রাট আকবর বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত করেন। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের পরাজয়ের ফলে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসনের মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক মোট ১৭ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৬ জন।

পানিপথের তিনটি যুদ্ধঃ

১ম যুদ্ধঃ ১৫২৬ সালে বাবর ও লোদী মধ্যে যুদ্ধ হয়। ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন।

২য় যুদ্ধঃ ১৫৫৬ সালে বৈরাম খান ও হিমু মধ্যে যুদ্ধ হয়। দিল্লি মুঘলদের নিয়ন্ত্রন আসে। 

৩য় যুদ্ধঃ ১৭৬১ সালে আবদালী ও মারাঠা মধ্যে যুদ্ধ হয়। মারাঠা সাম্রাজ্যের পতন ত্বরাম্বিত হয়।

সম্রাট বাবর

বাবরের জন্ম বর্তমান রুশ তুর্কিস্তানের অন্তর্গত ফারগানা নামক রাজ্যে। বাবর পিতার দিক থেকে তৈমুর লঙ এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। সাহসিকতা ও নির্ভীকতার জন্য তিনি ইতিহাসে বাবর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। বাবর শব্দের অর্থ সিংহ। বাবর ফঅরগানার সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে।

সম্রাট বাবর

ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন পানি পথের প্রথম যুদ্ধে। তুযুক-ই-বাবর  বা বাবরনামা নামে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। ১৫২৬ সালে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরজিত করে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভীত প্রতিষ্ঠা করেন।

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর। মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে ১৫২৬ সালে। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয় বাবর ও ইব্রাতীম লোদীল মধ্যে। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করে বাবর। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৫৫৬ সালে। পানিপথ নামক স্থানটি বর্তমানে অবস্থিত ভারতের “হরিয়ানা” নামক রাজ্যে। পানিপথের প্রান্তরে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় ৩টি। বাবর মৃত্যুবরণ করেন ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে। বাবরকে সমাহিত করা হয় কাবুলে।

সম্রাট হুমায়ুন

বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন। ১৫৩৮ খ্রিস্টব্দে তিনি গৌড় অধিকার করেন। গৌড় নগরের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি এর নাম রাখেন জান্নাতাবাদ। তিনি শেরশাহ এর সাথে কনৌজের যুদ্ধে ১৫৪০ – ১৫৫৫ পর্যন্ত সাময়িভাবে মুঘল শাসন ছিল না। এসময় শেরশাহ এর নেতৃত্বে ভারতবর্ষে শূরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৫৫ সালে হুমায়ুন পুনরায় মুঘল মাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলাকে জান্নাতাবাদ ঘোষণা করেন। শেরশাহ এ সাথে চৌসার যুদ্ধ করেন ১৫৩৯ সালে। শেরশাহ এর সাথে কনৌজের যুদ্ধ করেন ১৫৪০ সালে।

১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহের নিকট পরাজিত হলে দিল্লি হাত ছাড়া করেন। বাংলার নামকরণ করে জান্নাতাবাদ। বাবরের জ্যৈষ্ঠ পুত্রের নাম হুমায়ুন। হুমায়ুন শব্দের অর্থ ভগ্যবান। হুমায়ুন ক্ষমতা লাভ করেন ১৫৩০ সালে । হুমায়ুন সিংহাসনচ্যুত হন ১৫৪০ সালে। হুমায়ুন পরাজিত হন শেরশাহের নিকট। শেরশাহ হুমায়ুনকে পরাজিত করে কনৌজের যুদ্ধে ১৫৪০ সালে। চৌসার যুদ্ধ হয় ১৫৩৯ সালে। হুমায়ুন পুনরায় সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন ১৫ বছর পর ১৫৫৫ সালে। গ্রন্থাগারের সিড়ি হতে পড়ে মারাযান হুমায়ুন। হুমায়ুন মৃত্যুবরণ করেন ১৫৫৬ সালে।

শূর শাসন ও সম্রাট শেরশাহ

১৫৩৯ সালে চৌসারের যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরখান শেরশাহ উপাদি নেন। তিনি নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৫৪০ সালে তিনি বাংলা দখল করেন। একই বছর তিনি হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‍দিল্লি অধিকার করে উপমহাদেশে আফগান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

শেরশাহ

গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড নির্মাণ করেন। ভারবর্ষে ঘোড়ার ডাক প্রচলন করেন শেরশাহ। ভারতবর্ষে দাম মুদ্রার প্রচলন করেন। আফগান দুর্গ ‍নির্মাণ করেন (ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে)। সমাধিস্থল ভারতের বিহার রাজ্যের শাহাশ্রামে।