মুঘল সাম্রাজ্য পর্ব-২

মুঘল সাম্রাজ্য পর্ব-১

সম্রাট আকবর

১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন। হুমায়ুনের মৃত্যুর পর বৈরাম খান আকবরের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে আকবরের রাজ প্রতিনিধি হিসেবে থাকেন। এসময় ‍দিল্লি হিমু দখল করে নিলে বৈরাম খান পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে দিল্লি উদ্ধার করেন। পরিণত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বৈরাম খানই আকবরের অভিভাবক হিসেবে আকবরের পক্ষ থেকে রাজ্য পরিচালনা করেন।

বাংলায় মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয় ১৫৭৬ সালে। দ্বীন-ই-ইলাহী ধর্মের প্রবতন। মানসবদারি প্রথার প্রচলন । রাজপুত নীতির প্রবর্তন। বুলান্দ দরওয়াজা নির্মাণ। অমুতসর স্বর্ণমন্দির নির্মাণ। জিজিয়া কর ও তীর্থকর রহিতকরন। বাংলা সনের প্রবর্তন (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে, আরবি ৯৩৬ হিজরীতে)। বাংলা নবরর্ষের প্রচলন করেন সম্রাট আকবর।

সম্রাট আকবর

বাংলায় মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সাম্রাট আকবর। পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে ১৫৫৬ সালে হিমুকে পরজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব রক্ষা করেন। দ্বীন-ই-ইসলাম নামে নতুন ধর্ম প্রচলন করেন। জিজিয়া কর ও তীর্থকর রহিতকরন করেন। মনসবদারী প্রথার প্রচলন, ফতেপুর সিক্রি নির্মাণ করেন। বাংলা সাল, বাংলা নববর্ষের প্রচলন করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন তিনি। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরেহণ করেন ১৫৫৬ সালে। আকবর দিল্লির সিংহাসনে বসেন ১৩ বছর বয়সে। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও হিমুর মধ্যে (১৫৫৬ সালে)। আকবরের অভিভাবক ছিলেন বৈরাম খান। দেশবাচক বাংলা শব্দের প্রথম ব্যবহার হয় আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের রচয়িতা আবুল ফজল। আবুল ফজল ছিলেন সম্রাট আকবরের সভাকবি। সমগ্র বঙ্গ দেশ সুবহ-ই-বাঙ্গালাহ নামে পরিচিত ছিল সম্রাট আকবরের আমলে। সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় করেন ১৫৭৬ সালে। তানসেন ছিলেন আকবরের রাজসভার গায়ক। সম্রাট আকবরের রাজসভায় বিখ্যাত কৌতুককার ছিলেন বীরবল। বৈরাম খান ছিলেন আকবরের অভিভাবক ও তার বাবা হুমায়ুনের বন্ধু। আবুল ফজল ছিলেন সম্রাট আকবরের বন্ধু এবং সভাকবি। প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবেদার। আকবর প্রবর্তিত মনসবদারি প্রথা হল সেনাবাহিনী সংস্কার পরিকল্পনা। বাংলা সনের সূচনা করেন ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে, আরবি ৯৩৬ হিজরীতে। আকবরের মৃত্যুবরণ করেন ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে। আকবরের সামধিস্থল অবস্থিত সেকেন্দ্রায়।

সম্রাট জাহঙ্গীর 

সম্রাট আকবরের বাংলা জয় করলেও সারা বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “তুজুক-ই-জাহাঙ্গীর”। তিনি এদেশের সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিবাহ মুঘল সাম্রজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । তিনি অপূর্ব রূপবতী ও গুণবতী মহিলা ছিলেন। নূরজাহানের বাল্য নাম ছিল মেহেরুন্নিছা।

তিনি নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন। আগ্রার দূর্গ নিমার্ণ করেন। জাহাঙ্গীরের ডাক নাম ছিল শেখু বাবা। সম্রাট জাহাঙ্গীর জোর করে বিয়ে করেছিলেন আলীকুলী বেগের পত্নী নূরজাহানকে। নূরজাহান অর্থ জগতের আলো। নূরজানাহান এর প্রকৃত নাম মেহেরুন্নিসা। বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ করেন ইসলাম খানকে। তাঁর আমলেই ইসলাম খান কর্তৃক বারো ভুঁইয়াদের দমন করা হয় । তাঁর আমলেই ইসলাম খান কর্তৃক বাংলার রাজধানী রাজমহল হতে ঢাকায় স্থানান্তর (১৬১০) করা হয় এবং ঢাকার নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর। ১৬১২ সালে সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধীনে আনয়ন করেন। তাঁর আমলেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় আগমন করে।

সম্রাট শাহজাহান

সম্রাট শাহজাহান

জাহাঙ্গীরের পরে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক হন শাহজাহান। স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ আগ্রহ। ময়ূর সিংহাসন ও তাজমহলসহ বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণের জন্য তাঁকে “Prince of Builders” বলা হয়।

শাহজাহানের অনুমতিক্রমে বাংলার পিপিলাই নামক স্থানে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ইংরেজরা। শাহজাহান উপাধি দেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। শাহজাহান অর্থ বিশ্ব সম্রাট। ময়ূর সিয়হাসনের শিল্পী ছিলেন পারস্যের বেবাদল খান। ময়ূর সিংহাসন বর্তমানে রয়েছে ইরানে। শাহজাহানের স্ত্রীর নাম মমতাজ। 

তিনি আগ্রার তাজমহল নির্মাণ করেন। ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন। দিল্লি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। দিল্লির লালকেল্লা নির্মাণ করেন। আগ্রায় মতি মসজিদ নির্মাণ করেন। খাসমহল ও শীষমহল নির্মাণ করেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.