ভারত

ভারত

আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় ‍দিক ‍দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত। পশ্চিম সীমান্তে আরব সাগর ও পাকিস্তান, পূর্বে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার, উত্তর-পূর্বে চীন, নেপাল ও ভুটান ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দেশটি দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ‍ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত। বঙ্গোপসাগর আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অংশ।

ভারতের স্বাধীনতা

ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট। স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। ভারত প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয় ১৯৫০ সালে।

ভারতের সংবিধান

ভারতের সংবিধান  গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর। সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ উদযাপন করে ২৬ জানুয়ারি। বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান ভারতের।

জনসংখ্যা ও আয়তন

মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৩৯ কোটি। জনসংখ্যায় বিশ্বের ২য় বৃহত্তম দেশ ভারত। আয়তনে বিশ্বের ৭ম দেশ ভারত। আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ রাষ্ট্র।

মহাত্মা গান্ধী

ভারতের সীমান্ত দ্বন্দ্ব

ভারত-চীন যুদ্ধ হয় ১৯৬২ সালে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশটি চীন তাদের একাংশ বলে দাবী করে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিতর্কিত ভূমি দক্ষিণ তালপট্টি। এর মূল মালিকানা বাংলাদেশ দাবীদার হলেও ভারত ১৯৮১ সালে দ্বীপটি বাংলাদেশের কাছ থেকে জোর করে দখল করে নিয়ে যায়। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন ছিটমহল ছিল ১৬২ টি। বিতর্কিত ‘সিয়াচেন’ জায়গাটি অবস্থিত ভারত পাকিস্তান সীমান্তে।

ভারতের ইতিহাস বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

মহাত্মা গান্ধীঃ ভারতের জাতির জনক ও জাতীয়তাবাদী নেতা মহাত্মা গান্ধী। তাঁর প্রকৃত নাম- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ‘মহাত্মা’ উপাধি দেন- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভারতীয় উপমহাদেশে হরতালের প্রবর্তক তিনি। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রবক্তা। অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের জনক। অসহযোগ আন্দোলনের সময়কাল ১৯২০-১৯২২ সাল। আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস ২ অক্টোবর। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবর। অসহযোগ আন্দোলনকালে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত ‘কায়সার-ই-হিন্দ’ খেতাব ফিরিয়ে দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থ- The Story of My Experiments with Truth ।

জওহরলাল নেহেরুঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর পিতার নাম মতিলাল নেহেরু। তাঁর মেয়ে ইন্ধিরা গান্ধী। তাঁর দৌহিত্র রাজীব গান্ধী।

মাদার তেরেসাঃ তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট। তিনি জাতিতে ছিলেন আলবেনীয়। তাঁকে ‘Living Saint’ নামে ডাকা হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৯৫০ সালে ভারতের কলকাতায় ‘Missionaries of Charity’ নামে একটি খ্রিস্ট ধর্মপ্রচারণাসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮০ সালে ‘ভারতরত্ন’ সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদঃ তাঁর জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৮৮৮ সালে, মক্কায়। ভারতের জাতীয় শিক্ষা দিবস ১১ নভেম্বর। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। ১৯২৩ সালে ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯২  সালে ভারতরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর মৃত্যু ১৯৫৮ সালে দিল্লিতে হয়।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

ইন্দিরা গান্ধীঃ ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতার সময়কাল ১৯৬৬-১৯৭৭ এবং ১৯৮০-১৯৮৪ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৪ সালে নিজ দেহরক্ষী সাতওয়ান্ত সিং এবং বি আন্ট সিং এর গুলিতে নিহত হন।

রাজীব গান্ধীঃ ভারতের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।  বেফোর্স কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। LTTE এর আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন ২১ মে ১৯৯১ সালে। রাজীব গান্ধীকে হত্যার জন্য বোমা বহনকারী আত্মঘাতী মহিলার নাম তেনমুলি রাজারত্নম ওরফে থানু (গায়েত্রী)। রাজীব গান্ধীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত আসামীর নাম নলিনী।

এ.পি.জে আব্দুল কালামঃ ভারতীয় বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী।  ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি (২০০২-২০০৭) ছিলেন। তিনি মিসাইল ম্যান নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালে ভারতরত্ন পদক লাভ করেন।

মনমেহন সিংঃ তিনি পেশায় একজন অর্থনীতিবিদ। ভারতের ১৩তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ভারতের প্রথম শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী। 

আন্না হাজারেঃ একজন ভারতীয় সামজ সংস্কারক। প্রকৃত নাম কিষাণ বাবুরাও হাজারে। দুনীতিবিরোধী আন্দোলনের জন্য পরিচিত।