বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক বানিজ্য

Bangladesh

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা, করোনা মহামারি এবং বিশেষ করে ইউক্রেন সংকটের মধ্যেই ইতিবাচকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জাতীয় রপ্তানি খাত এবং বৈদেশিক বানিজ্য। চলতি ২০২২ সালের মার্চ মাসে তৈরি পোশাক শিল্পের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ একক কোন মাস হিসেবে রেকর্ড পরিমান ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করে। যা গত ২০২১ সালের মার্চ মাস অপেক্ষা ৫৪.৮২% বেশি। যেখানে ২০২১ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ৩.০৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করেছিল। বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই/২১ থেকে মার্চ/২২ পর্যন্ত মোট ৯ মাসে রপ্তানি খাত থেকে আয় হয় ৩৮.৬১ বিলিয়ন ডলার।

সে হিসেবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ মাসে মোট ৫২.০০ বিলিয়ব ডলার রপ্তানি খাত থেকে আয় হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। চলতি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে গত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সব মিলিয়ে পন্য রপ্তানি হয়েছে রপ্তানি হয়েছে ৪৮৫ কোটি ডলার এবং ২০২১ সালের একই সময়ে চেয়ে ৪১.১৩% বেশি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৮.৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং যেখানে রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩.৫০ বিলিয়ন ডলার। এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা মহামারীর ছোবলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় অনেকটা হ্রাস পেয়ে ৩৩.৬৭ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়ায়। যদিও ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৫.৫০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি আয় হয় ৪০.৫৩ বিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় রপ্তানি আয় ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পেলেও তার সাথে কিন্তু পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের আমদানি ব্যয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট পন্য ও সেবা আমদানি করেছিল ৬৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে সারা বিশ্বে পন্য রপ্তানি করা হয় ৩৮.৭৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে অতিরিক্ত ২৬.৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে সারা বিশ্ব থেকে পন্য ও সেবা আমদানি করতে। আর এই আমদানি ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ রিজার্ভে জমা থাকা আমাদের সম্মানিত প্রবাসী কর্মীদের রেমিট্যান্স আয় থেকে ডলার দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে। যা একটি উদীয়মান উন্নয়নশীল দেশের বৈদেশিক বানিজ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নেতিবাচক প্রবণতা প্রকাশ করে। তাই আমাদের দেশের জাতীয় অর্থনীতি এবং বৈদেশিক বানিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় পন্য ও সেবা আমদানিতে অবশ্যই লাগাম টেনে ধরতে হবে। তার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ করে হলেও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ লেনদেন ও পাচারের সকল পথ বন্ধ করে দিতে হবে।

এদিকে আমাদের প্রাণের প্রিয় বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি এখনো পর্যন্ত টিকে রয়েছে সম্মানিত প্রবাসী কর্মী ভাই বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর টাকার উপর নির্ভর করে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় হয় ২৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার। যা কিনা পূর্বের ২০১৯-২০ অর্থবছর অপেক্ষা ৩৬% বেশি। যেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স আয় হয় ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার। তাই আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতি অর্থবছর গড়ে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় এবং তার সাথে ৩০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আমাদের জাতীয় পর্যায়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক: সিরাজুর রহমান (Sherazur Rahman)

সহকারী শিক্ষক ও লেখক,

গ্রামঃ ছোট চৌগ্রাম, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।