এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত স্থান

এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত স্থান

মক্কাঃ পবিত্র মক্কা নগরীকে পৃথিবীির কেন্দ্র বলা হয়। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি শহর। মুসলমানদের নিকট একটি পবিত্র স্থান। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক বিশ্বনবী হযযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন (৫৭০) খ্রিস্টাব্দে। ইসলাম ধর্মের পবিত্র “কাবা শরীফ”  অবস্থিত। উপনাম “বালাদুল আমীন” বা “নিরাপদ শহর”। 

মদীনাঃ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র রওজা মোবারক অবস্থিত। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি শহর। মুসলমানদের নিকট ‍দ্বিতীয় পবিত্র স্থান। ৬২২ খিস্টাব্দে নবীজী (সাঃ) পবিত্র মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেন।

কারবালাঃ ইরাকের একটি শহর। ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত। ৬১ হিজরীতে ঐতিহাসিক কারবালা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজী (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেন।

বসরাঃ  ইরাকের একটি শহর। হযরত রাবেয়া বসরী (র.) এর জন্মস্থান।

ক্যান্ডিঃ শ্রীলংকার একটি স্থান। বৌদ্ধ সভ্যতার বিখ্যাত কেন্দ্র।

আজমীর শরীফঃ ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত। হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী (র.) এর সমাধিস্থল।

ইস্তাম্বুলঃ  তুরস্কের প্রাক্তণ রাজধানী ও প্রাচীন নগরী। পূর্বনাম কন্সস্ট্যান্টিনোপল। এশিয়া ও ইউরোপ উভয় মহাদেশে অবস্থিত।

বেথেলহেমঃ প্যালেস্টাইনে অবস্থিত। যীশুখ্রীস্টের জন্মস্থান।

চীনের মহাপ্রাচীরঃ মঙ্গোলিয়া ও চীনের বিশাল সীমান্ত জুড়ে অবস্থিত। পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি। নির্মাণকাল খ্রিস্টপূর্ব (২২১-২০৬) অব্দে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০০ কি.মি. বা ৪০০০ মাইল। ‍নির্মাতা চ’ইন (ch.in) যার নামানুসারে “চীন” নামকরণ করা হয়েছে।

চীনের মহাপ্রাচীর

তিয়েন আনমেন স্কয়ারঃ অবস্থিত চীনের রাজধানী বেইজিং এ। তিয়েন আরমেন শব্দের অর্থ চিরশান্তির তোরণ। এই স্কয়ারে দাঁড়িয়ে ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর মাও সে তুং চীনকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করে। এই স্থানে ১৯৮৯ সালেরজুন মারে গণতন্ত্রের দাবিতে চীনের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ করলে সৈন্যদের কামান ও ট্যাংকের গুলিতে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী নিহত হয়। ১৯৯৭ সালে হংকং হস্তান্তরের আনন্দঘন অনুষ্ঠাটি এই স্কয়ারে পালিত হয়। 

পলাশীঃ পশ্চিমবঙ্গের ভাগিরথী নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রান্তর। ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন এই স্থানে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভ ও বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব সিরাজ উদ দৌলার মাঝে যুদ্ধ হয় এবং নবাবের পতন হয়।

জেরুজালেমঃ স্থানটি মুলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি তিন ধর্মের নিকট পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত। হযরত মূসা (আ) ধর্ম প্রচার করে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মিরাজ এখান থেকে শুরু হয়। ইসলামের প্রথম কেবলা ও ঐতিহাসিক মসজিদ বায়তুল মোকাদ্দাস অবস্থিত। স্থানটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।

স্বণমন্দিরঃ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের  অমৃতসর নগরীতে অবস্থিত শিখদের পবিত্র মন্দির। ১৯৮৪ সালে ভারতের ইন্দিরা সরকার স্বাধীনতাকামী শিখদের দমনের জন্য উক্ত মন্দিরে “ব্লু স্টার” অভিযান প্রেরণ করেন। এর ফলে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। শিখরা “গুরু নানক” এর অনুসারী।

ম্যানিলাঃ  ফিলিপাইনের রাজধানী, বৃহত্তম নগরী ও বন্দর। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। 

ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানঃ  ইরাকে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে নির্মিত ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি করেন রাজা নেবুচাঁদনেজার।

গ্রেট হলঃ  চীনের রাজধানী বেইজিং এ অবস্থিত। চীনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িল দ্বীপপুঞ্জঃ  জাপান সাগরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়া জাপানের কাছ থেকে দখল করে।

কুতুব মিনারঃ পুরাতন দিল্লিতে অবস্থিত। কতুব উদ্দীন আইবেক নির্মিত ভারতের সর্বোচ্চ মিনার। ১২৩২ সালে নির্মাণ করা হয়। উচ্চতা ৫৮ মিটার।

তাজমহলঃ  ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত মনোরম স্মৃতিস্তম্ভ। মোঘল সম্রাট শাহজাহান তার সহধর্মিনী মমহাজ মহলের সমাধির উপর ২২ হাজার লোকের ২০ বছরের শ্রমের সাহায্যে এ সুরম্য স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। পৃথিবীর অন্যতম সপ্তাশ্চর্য। নির্মাণকাল (১৬৩২-১৬৫৩) খ্রিস্টাব্দ (সপ্তদশ শতাব্দী)। প্রধান ডিজাইনার ওস্তাদ আহমদ লাহোরি মতান্তরে মাস্টার ঈসা।

তাজমহল

শান্তি নিকেতনঃ পশ্চিমবঙ্গের বোলপুর অবস্থিত একটি ছোট শহর। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত আশ্রম রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে বিশ্ববারতী নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটিকে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে।

বাবরী মসজিদঃ এ ঐতিহাসিক মসজিদটি ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত। ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবরের নির্দেশে সেনাপতি মীর বাকি এটি নির্মাণ করেন।এ ঐতিহাসিক মসজিদটির নির্মাণ ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে। হিন্দু মৌলবাদীদের দাবি যে, মসজিদটি দেবতারামের মন্দির ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ হিন্দু চরমপস্থিদের দ্বারা বিধ্বস্ত হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১০ আলোচিত বাবরী মসজিদ মামলার রায় হয়। রায়ে বলা হয়, মুসলিম সম্প্রদায় পাবে এক-তৃতীয়াংশ এবং হিন্দু ধমীয় সংগঠন দুই-তৃতীয়াংশ।

তক্ষশিলাঃ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নিকট অবস্থিত বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম বিখ্যাত স্থান। বৌদ্ধ যুগের প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

পশ্চিম তীরঃ জর্ডান নদীর তীরে একটি পার্বত্য সমভূমি অঞ্চল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল এ অঞ্চলটি ধখল করেছিল।

গাজাঃ ইসরাইল অধিকৃত একটি ফিলিস্তিন উপত্যকা। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল এটি দখল করে নেয়। বর্তমান শান্তি চক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্পণ করা হয়েছে।

কাবা শরীফঃ  সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ। বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) বলা হয়।

গোলান মালভূমিঃ সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্তবর্তী উচ্চ মালভূমি। ১৯৬৭  সালের ৩য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল এটি দখল করে নেয়।