পলাশীর যুদ্ধ ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা

পলাশীর যুদ্ধ

সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দী এনের দৌহিত্র। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দী খান মৃত্যুর পূর্বে সিরাজকে তার উত্তরাধিকারী মনােনীত করে যান। ফলে সিরাজ মাত্র ২৩ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদের সিংহাসন আরােহণ করেন। সিংহাসন লাভের অল্পকাল পরেই ইংরেজদের সাথে মুলত ৫ টি কারণ নিয়ে। | সিরাজ-উদ-দৌলার বিরােধ বাধে। কারণগুলাে হল :

  • সিরাজ-উদ-দৌলা সিংহাসনে বসলে রেওয়াজ অনুযায়ী ইংরেজরা তাকে কোন উপঢৌকন পাঠায় নি। 
  • সিরাজের শত্রই কৃষ্ণদাসকে ইংরেজরা আশ্রয় দেয়। 
  • সিরাজের শত্রু ঘষেটি বেগম ও শওকত জং-কে ইংরেজরা সহায়তা করেছিল 
  • সিরাজের আদেশ অমান্য করে কলকাতা ও চন্দননগর দুর্গ নির্মাণ। 
  • ইংরেজদের বাণিজ্যিক সুবিধার যথেচ্ছ অপব্যবহার।

মুর্শিদাবাদের দক্ষিণে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সেনা সমাবেশ করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ফরাসি সেনানায়ক সিনফ্রে নবাবের পক্ষে প্রাণপণে। | যুদ্ধ করেন। কিন্তু মীরজাফর, ইয়ার লতিফ ও রায়দুর্লভের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন।

সিরাজ-উদ-দৌলা প্রকৃত নাম- মীর্জা মুহাম্মদ। ঘষেটি বেগম ছিলেন- আলীবর্দী খানের কন্যা। সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন- আলীবর্দী খানের নাতি। নবাব আলীবর্দী খান মৃত্যুবরণ করেন- ১৭৫৬ সালে। সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার নবাব হন- ১৭৫৬ সালে। সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা নগরী দখল করেন- ১৭৫৬ সালে। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ দখল করেন- ১৭৫৬ সালে। পলাশীর যুদ্ধ হয়- ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে। কলকাতার নাম পরিবর্তন করে আলিনগর রাখেন- সিরাজ-উদ-দৌলা । পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব- মুর্শিদকুলী খান। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। বাংলার শেষ নবাব- নিজাম-উদ-দৌলা । সিরাজ-উদ-দৌলার হত্যাকারীর নাম- মুহাম্মদী বেগ। পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি ছিল- রবার্ট ক্লাইভ। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়- পলাশীর যুদ্ধের পরাজয়ের ফলে।

মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ 

পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা মীর জাফরকে বাংলার নবাব বানান। কিন্তু তিনি ইংরেজদের দাবি দাওয়া মিটাতে না পারায় ইংরেজরা তাকে সরিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে বাংলার নবাব করেন। মীর কাসিম ছিলেন স্বাধীনচেতা। তিনি ইংরেজদের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চাইলেন। তাই ইংরেজদের সাথে মীর কাসিমের বিরােধের ফলে বক্সারের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হয়। এ যুদ্ধ জয়ের ফলে। বাংলায় ইংরেজ শাসন আরাে দৃঢ় হয়। প্রকৃতপক্ষে ভারতে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার। জন্য বক্সারের যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

মীর কাসিম

মীর কাসিম ছিলেন- মীর জাফরের জামাতা। বক্সারের যুদ্ধ হয়েছিল- ১৭৬৪ সালে। অজ্ঞাত অবস্থায় ১৭৭৭ সালে মীর কাসিম মৃত্যুবরণ করেন- দিল্লিতে। বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ইংরেজ ও মীর কাসিমের মধ্যে।

ইংরেজ শাসনের প্রভাব 

ইংরেজ সরকার ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম বন্দোবস্ত | যাৰ সফল-কুফল দুই-ই ভােগ করে এদেশবাসী। ইংরেজদের সান্নিধ্যে এসে এদেশের মানুষ সংস্কৃত, ফার্সির পাশাপাশি ইংরেজি শেখার সুযােগ লাভ করে। ইংরেজ শাসনের প্রভাবের মধ্যে উল্লেখযােগ্যঃ

> দ্বৈত শাসন > ছিয়াত্তরের মন্বন্তর > পাঁচশালা > দশশালা > চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত >পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন

দ্বৈত শাসন

দ্বৈত শাসন বলতে বােঝায়- কর উত্তোলনের দায়িত্ব থাকবে দেশীয় কর্মচারীদের ওপর আর মূল শাসন ক্ষমতা থাকবে ইংরেজদের হাতে। প্রবর্তন করেন- লর্ড ক্লাইভ। প্রবর্তন করা হয়- ১৭৬৫ সালে। বিলােপ করেন- ওয়ারেন হেস্টিংস। বিলােপ করা হয়- ১৭৭২ সালে। | ফলাফল- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। 

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় বাংলা- ১১৭৬ সালে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় ইংরেজি- ১৭৭০ সালে। মন্বন্তরকালীন গর্ভনর ছিলেন- লর্ড কার্টিয়ার। বাংলার এক-তৃতীয়াংশ লােক মারা গিয়েছিল- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে। 

পাঁচশালা 

পাঁচশালা বলতে বােঝায়- পাঁচ বছর মেয়াদি ইংরেজদের কর উত্তোলনের পরিকল্পনা। পাঁচশালা চালু করেন- ওয়ারেন হেস্টিংস। পাঁচশালা চালু করা হয়- ১৭৭৩ সালে।

দিশশালা

দশশালা বলতে বােঝায়- দশ বছর মেয়াদি ইংরেজদের কর উত্তোলনের পরিকল্পনা। দশশালার পরবর্তী সংস্কার রূপ- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।  দশশালা প্রবর্তন করেন- লর্ড কর্ণওয়ালিস। 

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত 

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর অপর নাম- সূর্যাস্ত আইন। করেন- লর্ড কর্ণওয়ালিস (১৭৯৩ সালে)। উদ্দেশ্য- স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন। 

পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন

কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক (১৮৩৫)।ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার গােড়াপত্তন করেন- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক। অফিস আদালতে ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা চালু করেন- লর্ড বেন্টিংক (১৮৩৫)। নারী শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত কলেজ- বেথুন কলেজ।