আলেকজান্ডারের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন

আলেকজান্ডার

আলেকজান্ডার জাতিতে ছিলেন আর্য গ্রিক। তিনি ছিলেন মেসিডোনিয়ার রাজা ফিলিপসের পুত্র। বার্লকালে তিনি প্রখ্যাত গ্রিক দার্শুনক অ্যারিস্টটলের নিকট গৃহশিক্ষা লাভ করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ অব্দে ফিলিপসের মৃত্যু হলে আলেকজান্ডার ম্যাডিসনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। আলেকজান্ডারের প্রধান সেনাপতির নাম ছিল সেলিওকাস। আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ ছেড়ে যাওয়ার সময় সেলিওকাসের উপর ভারতবর্ষ শাসনের দায়িত্ব রেখে যান। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর সেলিওকারকে পরাজিত করে ভারতবর্ষে গ্রিক প্রাধান্যের অবসান ঘটান চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।

গুরু-শিষ্য

সক্রেটিসঃ গ্রিক দার্শনিক। ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বে হেমলক বিষপানে হত্যা কারা হয়। প্রকৃতির ছাত্র এবং জ্ঞানীর পিতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বির্খ্যাত উক্তি,“Know Thyself” নিজেকে জানো। সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো।

প্লেটোঃ গ্রিক দার্শনিক ও গুণতজ্ঞ। শিক্ষাকেন্দ্রের নাম একাডেমিয়া। বিখ্যাত গ্রন্থ “The Republic” ও “Apology”। প্লেটোর ছাত্র ছিলেন এরিস্টটল।

এরিস্টটলঃ গ্রিক দার্শনিক । শিক্ষাকেন্দ্রের নাম লাইসিয়াম। বিখ্যাত গ্রন্থ “The Politic” এরিস্টটল একাধারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার জনক। এরিস্টটল এর ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার।

এরিস্টটল (ফটো: ফুলকিবাজ)

আলেকজান্ডারঃ আলেকজান্ডার মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তার পিতা ‍দ্বিতীয় ‍ফিলিপের স্থলাভিক্তিক হন। এবং ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তিনি মিশর থেকে উত্তর পশ্চিম ভারত পর্য্যপ্ত প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলায় মৌর্য ‍যুগ

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজবংশকে পরাজিত করে মগধের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে তিনি এই সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান। প্রচীন ভরতে প্রথম সর্ব ভারতীয় ঐক্য রাষ্ট্র স্থাপন করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৮৫  পর্যন্ত মোট ৯ জন শাসক মৌর্যবংশকে শাসন করে।

 মৌর্যবংশের শাসকগণঃ

১) চন্দ্রগুপ্ত ২) বিন্দুসার ৩) সম্রাট অশোক ৪) দশরথ ৫) সম্প্রতি ৬) শালিশুক

৭) দেববর্মণ ৮) শতধানবান     ৯) বৃহদ্রথা

মৌর্যবংশের ৩ জন শাসক

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যঃ প্রচীন ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় সম্রাট ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে নন্দ বংশকে উচ্ছেদ করে মাত্র ২০ বছর বয়সে মগদের সিংহাসন দখল করেন। তিনি ভারতের প্রথম সম্রাট। পাটালিপুত্র ছিল তাঁর রাজধানী। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলিওকাসকে পরাজিত করে উপমহাদেশ হতে গ্রিকদের বিতাড়িত করেন।

বিন্দুসারঃ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যোর স্বেচ্ছা অবসরের পর তার পুত্র বিন্দুসার মাত্র বাইশ বছর বয়সে সিংহাসন লাভ করেন। তাঁর রাজত্বকালে তক্ষশীলার অধিবাসীরা বিদ্রোহ করেন যা ‍তিন দমন করতে ব্যর্থ হন। বিন্দুসার ছিলেন শান্তিকামী ও শিক্ষা অনুরাগী। বৌদ্ধ গ্রন্থ অনুসারে, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর রাজত্ব করেন।

সম্রাট অশোকঃ পিতা বিন্দুসার মৃত্যুর তিন বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোক মৌর্য্য সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন। তাঁর সময়ই সমগ্র ভারতবর্ষ মৌর্য সাম্রাজ্যের দখলে আসে। দক্ষিণাত্যের কিছু অংশ বাদ দিয়ে তিনি ভাতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল শাসন করেন। প্রাচীন পুন্ড্রনগর ছিল সম্রাট অশোকের রাজধানী। 

উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাঁর ভাতাদের নির্মমভাবে হত্যা করার জন্য সম্রাট অশোক “চন্ডাশোক” উপাধি লাভ করেন। তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করেন। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে তিনি বৌদ্ধ ‍ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের একজন পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হন। তিব্বতের রাজার অনুরোধের বৌদ্ধ ধর্মকে দূর্নীতিমুক্ত করার জন্য সেখানে যান। তাঁর প্রচেষ্টায় বৌদ্ধধর্ম বিশ্বধর্মের মর্যাদা পায়। অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় শুধুমাত্র মৌর্য্য সাম্রাজ্যে নয়, এশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারিত হয়। মহাস্থানগড়ে সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। 

সম্রাট অশোককে বৌদ্ধধর্মের “কনস্ট্যানটাইন” বলা হয়। কনস্ট্যানটাইন ছিলেন খ্রিস্টন রোমান সম্রাট। তাঁর সময়েই খ্রিস্টান ধর্মের সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রসার হয়। তিনি জেরুজালেমকে খ্রিস্টান ধর্মের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। আর সম্রাট অশোকের চেষ্টায় বৌদ্ধধর্ম বিশ্বধর্মের মর্যাদা পায়। এজন্য রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটাইনের সাথে ‍তুলনা করে সম্রাট অশোককে “বৌদ্ধধর্মের কনস্ট্যানটাইন” বলা হয়।